মৃত্যুর পূর্বের ৪৮ ঘণ্টায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কি কি করেছিলেন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর? জানলে অবাক হবেন আপনিও!

নিজস্ব প্রতিবেদন: চলতি বছর মা সরস্বতীর বিদায় বেলায় মর্ত্য ছেড়ে বিদায় নিয়েছিলেন তারই বরপুত্রী শ্রদ্ধেয়া লতা মঙ্গেশকর। তার আগে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে দীর্ঘ ২৮ দিন ধরে চলেছে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। প্রয়াণের ঠিক আগে কি কি করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর তার বিশেষ কিছু টুকরো স্মৃতি সম্প্রতি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তার চিকিৎসক প্রতীক সন্তানি। তিনি গত বেশ কয়েক বছর ধরেই লতা মঙ্গেশকরের চিকিৎসা করছিলেন।

এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা লতা মঙ্গেশকরের জীবনের শেষ কয়েকটি দিনের কথা বিস্তারিত জেনে নেব। চলুন তাহলে আর সময় নষ্ট না করে আজকের এই প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক। চিকিৎসার সুবাদে শেষের দিনগুলিতে লতা জিকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন চিকিৎসক প্রতীক সন্ধানী। তিনি বলেছেন লতাজির অন্তিম স্পর্শ পাওয়া তার আজীবনের প্রাপ্তি। শেষ বেলায় লতাজির মতন মানুষের চিকিৎসা করতে পারাটাই তো তার পেশাদারী জীবনের সবথেকে বড় সাফল্য।

প্রতিক জানান মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হালকা হাসি লেগেই ছিল লতাজির মুখে। এই হাসি কখনো ভোলার নয়। বয়স এবং বার্ধক্য জনিত রোগের কারণে অত্যন্ত কম কথা বলতেন লতাজি। চিকিৎসক প্রতীক সন্ধানী জানিয়েছেন এত বড় মাপের মানুষ হওয়ার পরেও অত্যন্ত সহজ আর সাধারণভাবেই জীবন কাটাতেন লতাজি। বরাবর থেকেই গায়িকা ছিলেন মিষ্টভাষী।

হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি সর্বদা অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসাও সমান গুরুত্ব দিয়ে করার কথা বলতেন। চিকিৎসক আরো জানিয়েছেন যে তার আট বছরের মেয়ের সঙ্গে লতা মঙ্গেশকরের দারুণ বন্ধুত্ব হয়েছিল। এমনকি অসুস্থতা সত্বেও তার মেয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন শিল্পী।লতাজির প্রয়াণে পরবর্তীতে তাই ভেঙে পড়েছিল এই ছোট্ট মেয়েটিও। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল এর আইসিইউ ওয়ার্ড এর অন্য দুইজন নার্সও কিন্তু লতাজির অত্যন্ত কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।

এরমধ্যে একজন হলেন সারিকা অন্যজন হলেন অশ্বিনী। লতাজির মৃত্যুর পর সারিকা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, শিবাজী পার্কে যখন ভারতরত্ন লতাজীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে তখন উপস্থিত ছিলাম আমি। ওনাকে ভীষণ রকমের মিস করবো। শেষ কয়েকটি দিনে লতাজির অবস্থার অত্যন্ত অবনতির কারণে ওনাকে ভেন্টিলেশনে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। গায়িকার অক্সিজেন লেভেল ক্রমাগত কমতে শুরু করেছিল।

এই সবকিছুর মধ্যেও কিন্তু লতাজি চিনতে পেরেছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক এবং নার্সদের। লতাজির সঙ্গে থাকা নার্স সারিকা জানিয়েছেন,” এত অসুস্থতার মধ্যেও তিনি আমাদের চিনতে পেরেছিলেন। আমরা যখন কোন মজার কথা বলতাম উনি বেশ বুঝতে পারতেন। তবে অসুস্থতার ভারে আর কথা বলতে পারতেন না।শুধু তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠত”।৮ ই জানুয়ারি করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে লতা মঙ্গেশকরকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শুধুমাত্র তাই নয় নিউমোনিয়া আর বার্ধক্য জনিত সমস্যাও তাকে কাবু করে ফেলেছিল। ৩০ জানুয়ারি তার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট চলে আসে। তারপরেই লতাজির প্রস্রাব,কিডনি সমস্ত কিছু ঠিকঠাক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। দুবার ডায়ালিসিস করার পরেও কোনরকম সারা দেননি তিনি। তবে হাজারো চিকিৎসার পরেও এই শিল্পীকে আর শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

শেষমেষ ইহজগত ছেড়ে অনন্ত লোকের পথে পাড়ি জমান জনপ্রিয় গায়িকা লতা মঙ্গেশকর। লতাজির গান যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কিন্তু আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি অবশ্যই শেয়ার করে নিতে ভুলবেন না।

Back to top button