খুব শীঘ্রই ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘নোরু’! পুজোর মধ্যে কোন কোন জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা? পূর্বাভাস জারি হাওয়া দপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রসঙ্গত চলতি সপ্তাহের শনিবার শারদীয়া দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠী। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বহু পূজোর উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে। অনেক মানুষরাই কিন্তু বেরিয়ে গিয়েছেন ঠাকুর দেখতে। যে সমস্ত জায়গায় এখনো পর্যন্ত পুজোর প্রস্তুতি শেষ হয়নি সে সমস্ত জায়গায় চলছে শেষ সময়ের কাজ। জামা কাপড় কেনাকাটা থেকে অন্যান্য প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ তুঙ্গে। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝেই রাজ্যের মানুষের জন্য একটি বড়সড় দুঃসংবাদ চলে এসেছে।

আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্যসূত্র অনুযায়ী জানা যাচ্ছে সম্ভবত গোটা দুর্গাপূজা জুড়েই রাজ্যে হতে চলেছে বৃষ্টিপাত। উৎসবের কাঁটা হতে চলেছে চীনের টাইফুন। ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত্য সৃষ্টি হবার কথা জানা গিয়েছে। যার জেরে বেশ কিছু সময় ধরেই সাগরে নজর রাখছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। সবমিলিয়ে পূজোর সময় কিন্তু বেশ কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হতে চলেছে বঙ্গবাসী।

আবহাওয়া দপ্তরের এই পূর্বাভাসের কারণে ইতিমধ্যেই চিন্তার ছাপ বাংলার মানুষের কপালে। চীন সাগরে টাইফুন থেকে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত! কতটা শক্তিশালী হবে সেটাই এখন সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ.. তাহলে কি সত্যিই শেষ পর্যন্ত গোটা দুর্গাপূজাটাই মাটি হয়ে যাবে? আসুন এই প্রসঙ্গে আবহাওয়া দফতরের বার্তা জেনে নেওয়া যাক। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন এলাকায়।

এছাড়াও ১ অক্টোবর নাগাদ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। যা থেকেই বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির সম্ভাবনা। প্রসঙ্গত বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। যদিও এই দিক থেকে দক্ষিণবঙ্গ সম্পূর্ণরূপে শুকনো খটখটে। যার ফলস্বরূপ দক্ষিণের আবহাওয়া নিয়ে বেশ খুশী ছিলেন পুজোর উদ্যোক্তারা।

নীল আকাশের শরতের মেঘের আনাগোনা দেখে রীতিমতো খুশির আমেজ মানুষের মধ্যেও। এই প্রসঙ্গে মৌসুম ভবনের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “১ তারিখ নাগাদ একটা নতুন ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে। এই ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে চলেছে পূর্ব মধ্য আর উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে। বর্তমানে দক্ষিণ চীন সাগরে এটা অবস্থান করছে”।

প্রসঙ্গত রবিবার ফিলিপিন্সে আছড়ে পড়েছে সুপার টাইফুন নোরু। সোমবার এটি চলে এসেছে দক্ষিণ চীন সাগরে। এরপর এই টাইফুন এগোবে ভিয়েতনাম উপকূলের দিকে। এরপর ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড হয়ে এটি পৌঁছে যাবে মায়ানমারে। মায়ানমার থেকে এর অবশিষ্টাংশ চলে আসবে আমাদের বঙ্গোপসাগরে। আর এই অবশিষ্টাংশ থেকেই সম্ভবত বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে চলেছে বলেই আশঙ্কা।

পুজোর চার দিন যে সম্পূর্ণরূপে বাঙালি বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সেই ব্যাপারে কিন্তু এখন থেকেই নিশ্চিত আবহাওয়াবিদরা। তবে যেহেতু এখনো হাতে বেশ কিছুদিন সময় রয়েছে তাই অনেকগুলি বিষয় ভাবার মতন রয়েছে। ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলেই সেটা যে নিম্নচাপে পরিণত হবে এমন কোন মানে নেই। নিম্নচাপ অক্ষরেখার অবস্থান থেকে শুরু করে অনেক বিষয়ের উপর এই ব্যাপারটি নির্ভর করে থাকে।

যদিও এই প্রসঙ্গে সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “২তারিখ অর্থাৎ সপ্তমী থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলিতে। এর প্রভাব পড়বে কলকাতার উপরেও”। ৪ তারিখ থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে মোটামুটি বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে বলেও জানাচ্ছেন তারা। প্রসঙ্গত বাংলায় ক্যালেন্ডার শরতের হলেও আবহাওয়াবিদদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কলকাতায় বর্ষা থাকে মোটামুটি ১২ ই অক্টোবর পর্যন্ত।

তাই এত তাড়াতাড়ি পূজো হওয়ায় অনেক আগে থেকেই কিন্তু চিন্তায় ছিলেন আবহাওয়াবিদরা। অক্টোবর মাস কিন্তু প্রথম থেকেই ঘূর্ণিঝড় প্রবল মাস। ২০১৩ সালেও নবমী আর দশমী এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছিল। যদিও এবারের পূজোয় কোন রকমের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না বলেই খবর। আপাতত পুজোর আবহাওয়া কেমন থাকে সেই দিকেই চাতক পাখির মতন চেয়ে রয়েছে বঙ্গবাসী।

Back to top button