টলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রীর মা করেছিলেন অপমান! এমনকি পার্শ্ব চরিত্র থেকে পড়েন বাদ, আজ সাফল্যের শীর্ষে ‘ত্রিনয়নী’ খ্যাত শ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদন: টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ হলেন শ্রুতি দাস। ত্রিনয়নী থেকে শুরু করে দেশের মাটি সমস্ত ধারাবাহিকেই কিন্তু তার অভিনয় রীতিমতো দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সব জায়গাতেই কিন্তু নিজের স্কিন টোনের কারণে বেশ কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয় এই নায়িকাকে। যদিও এইসব ব্যাপার খুব একটা গায়ে মাখেন না অভিনেত্রী।

যেকোনো ব্যাপার খুব সহজ আর সাবলীলভাবে গ্রহণ করেন শ্রুতি। নিয়মিত বহু মানুষের কটাক্ষের মুখোমুখি হয়েও ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছেন শ্রুতি দাস। অনেকেই মনে করেন ইন্ডাস্ট্রিতে শ্রুতিদাসের মতন সাহসী অভিনেত্রী খুব বেশি নেই। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার ভিডিওতে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কথা তুলে ধরেছেন শ্রুতি পাশাপাশি এমন কিছু তথ্য জানিয়েছেন যাতে অবাক হয়ে গিয়েছেন ভক্তদের একাংশ।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই শ্রুতিকে বলতে শোনা যায়, “পরাজয়টা আমি খুব একটা স্বীকার করতে শিখিনি। আমি চেষ্টা করব সারা জীবনের জন্য অপরাজিতা হয়ে থাকার। দিনের শেষে কিন্তু কোন মানুষই সম্পূর্ণরূপে সুখী নয়। এই সুখের মাপকাঠি টা যাদের একটু বেশি ফ্রাস্টেশন তারা কিন্তু ক্রিয়েটিভ কাজে মাথা দিতে পারে না। এখন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার জন্য কিন্তু ইন্টারনেটের এত অফার অ্যাভেলেবেল যে মানুষের কোন চিন্তাই নেই।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে গেলে যেহেতু শিক্ষিত হতে হয় না তাই যে কোন মানুষের প্রোফাইলে গিয়ে যা ইচ্ছে বলে দেওয়া যায়। আমার মনে হয় আমার মতন যারা মেয়েরা ছোট শহর থেকে একটা জায়গায় উঠে আসতে চাইছেন তাদের কিন্তু নির্দিষ্ট সময় অন্তর অবশ্যই আওয়াজ দেওয়া দরকার। এমনকি একবার এরকম একটা ঘটনা ঘটেছে যে শুটিং করতে যাচ্ছি একজন ভদ্রমহিলা এসে আমার হাত ধরে ঘষে বলছেন যে তুমি তো সত্যিই কালো। আমি চাইলেই ওই মহিলাকে সেদিন অপমান করতে পারতাম তবে আমার শিক্ষা আমাকে আটকেছে”!!

শ্রুতির কথায়,“অনেক অভিনেত্রী কিন্তু কিছুদিন কাজ না করলে দেখা যায় হারিয়ে যান। তবে আমার ক্ষেত্রে কিন্তু তা হয়নি। দেশের মাটি শেষ হওয়ার পরে এই যে দশ মাস আমি বিরতি নিয়েছি এই সময়ের মধ্যে প্রায় দিনই কিন্তু আমি এনগেজড আমার বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকছে। কখনো কোন ইভেন্ট আবার কখনো কোন স্যুট সবকিছু নিয়েই আমি সমানভাবে ব্যস্ত। আমার বাবা-মা দুজনই কিন্তু অত্যন্ত কষ্ট করে খেটে ওঠা মানুষ।

আমার বাবা ২৫ বছর একটা দোকানে কাজ করেছেন। আমি কাজ পাওয়ার পরে বাবার সেই কাজটা ছাড়িয়েছি। আমরা একে অপরের পরিপূরক। কখনো কখনো আমি আমার বাবা মাকে ইন্সপায়ার করি আবার কখনো তারা আমাকে ইন্সপায়ারড করেন”। এরপর যখন লিড চরিত্র আর স্পার্শচরিত্র নিয়ে শ্রুতিকে প্রশ্ন করা হয় তিনি জানান, “আমার কাছেও অনেক সাইড রোলের অফার এসেছে। প্রথমে সিলেক্ট হয়েও পরে বাদ করে দেওয়া হয়েছে।

আমাকে বিভিন্ন মানুষ বলেছেন যে তোমার মতন চরিত্র নেই বলেই তোমাকে কাস্ট করা হচ্ছে না। কিন্তু আমি বুঝতে পারি না আমার কাছে তো হাত-পা, দুটো চোখ, কান,মাথা সবকিছুই রয়েছে তাহলে আমার মতন চরিত্র নেই মানে? কষ্ট এখন আমার গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। বলতে গেলে গন্ডারের চামড়া। আমার চোখ থেকে জল পড়লে আমি কিন্তু আমার বালিশ টাই ভেজাই মায়ের বালিশটা ভিজতে দিই না।

এমনও হয়েছে যে টলিউডের এক সিনিয়র অভিনেত্রীর মা আমাকে বাজে কথা বলেছেন অপমান করেছেন অথচ আমি সেই জায়গা থেকে সেই কথা শুনেই চলে এসেছি। ঘুরে আর কিছুই বলিনি”। প্রসঙ্গত ব্যক্তিগত জীবনে অনেক লড়াই করে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন শ্রুতি দাস। বেশ কিছুদিন পর্যন্ত থিয়েটারেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। ত্রিনয়নী ধারাবাহিক এর মাধ্যমে তিনি সবথেকে বেশি পরিচিতি পান। এরপর দেশের মাটি ধারাবাহিকে মূল চরিত্রের দেখা গিয়েছিল তাকে।

যদিও এই ধারাবাহিকে রুকমা রয়ের জায়গায় তাকে কেন কাজ করা হলো সেটা নিয়ে জল্পনা আর বিতর্ক কম হয়নি।। তবে কমবেশি অনেকেই কিন্তু দেশের মাটি ধারাবাহিক টি পছন্দ করেছিলেন। এই ধারাবাহিকের শ্রুতির বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন দিব্যজ্যোতি দত্ত। ব্যক্তিগত জীবনে পরিচালক স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার এর সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন নায়িকা। স্বর্ণেন্দু তার থেকে বয়সে অনেকটা বড় সেটা নিয়েও কিন্তু কম কথা শুনতে হয়নি অভিনেত্রী শ্রুতি দাস কে। যদিও শ্রুতির আত্মবিশ্বাস দেখে আপনারা সহজেই বুঝতে পারবেন যে হাজার চেষ্টার পরেও কিন্তু তাকে ভাঙা যায়নি।

Back to top button