ঠাকুরের ভোগের খিচুড়ি হোক বা লুচি! খুব সহজ এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানিয়ে দেখুন নিরামিষ আলুর দম, খেতে হবে লা-জবাব!

নিজস্ব প্রতিবেদন: আলুর দম খেতে কিন্তু কম-বেশী সকলেই পছন্দ করে থাকেন। রুটি লুচি থেকে শুরু করে ভাতের সাথে কিন্তু গরম গরম আলুর দম খাওয়া যেতে পারে। যদি আপনারা নিরামিষ আলুর দম তৈরি করে থাকেন সেক্ষেত্রে কিন্তু যেকোনো নিরামিষের দিনে বা ভোগের খিচুড়ির সাথে আপনারা এই রেসিপি পরিবেশন করতে পারবেন।

সুস্বাদু এই রেসিপিটি কিন্তু শিশু থেকে বয়স্ক সকলেই পছন্দ করবে আর একবার বানালে বারবার খেতে চাইবে। মাছ-মাংস বা ডিমের বাইরে স্বাদে পরিবর্তন আনার জন্য তাই অবশ্যই আপনারা কিন্তু এই আলুর দমের রেসিপি বাড়িতে সহজে তৈরি করে নিতে পারেন। চলুন তাহলে আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

নিরামিষ আলুর দমের সহজ রেসিপি:

১) নিরামিষ আলুর দম তৈরি করার জন্য আপনাদের ৫ থেকে ৬ টি আলু খোসাসমেত মাঝখান থেকে কেটে সেদ্ধ করে নিতে হবে। সেদ্ধ করার সময় আপনাদের জলের মধ্যে সামান্য পরিমাণে লবণ আর হলুদ দিয়ে দিতে হবে। এতে আলুর মধ্যে লবণ ঢুকে যাবে আর সামান্য হলুদ দেওয়ার ফলে একটা কালার চলে আসবে সুন্দর। এরপর আপনাদের একটা বড় কড়াইতে পরিমাণ মতন তেল দিয়ে দিতে হবে। তারপর গোটা গোটা অবস্থাতেই আপনাদের আলু গুলিকে ভালো করে ভেজে নিতে হবে।

খেয়াল রাখবেন আলু যেন সেদ্ধ করার সময় খুব একটা বেশি গোলে না যায়। আলু ভাজা হয়ে গেলে তা আলাদা পাত্রে তুলে নিন। প্রসঙ্গত রান্নাটা সরষের তেলে করলেই বেশি ভালো হয় তবে সাদা তেলেও করতে পারেন। আলু তুলে নিয়ে ওই তেলের মধ্যেই আপনাদের দিয়ে দিতে হবে একটা বড় তেজপাতা ফোড়ন। তার সঙ্গে দিয়ে দিন দুটো শুকনো লঙ্কা, এক চা চামচ গোটা জিরে।

ফোড়নটাকে ভেজে নিয়ে আপনাদের এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে সামান্য পরিমাণে চিনি। এইভাবে যদি আপনি চিনি দেন তাহলে কিন্তু আলুর দমের রং খুবই লাল হবে আর দেখতেও ভালো লাগবে। চিনি দিয়ে মিশিয়ে নেওয়ার পর আপনাদের এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে সামান্য পরিমাণে হিং। ভালো করে এবার নাড়াচাড়া করে ফেলুন।

২) এবার এই মিশ্রণের মধ্যে আপনাদের দিয়ে দিতে হবে ২ চা চামচ আদা বাটা, একটা বড় মাঝারি সাইজের টমেটো পেস্ট। ভালো করে কষিয়ে নেওয়ার পর যখন তেল ছাড়তে শুরু করবে তখন এতে গুঁড়ো মসলা যোগ করে দিন। গুঁড়ো মসলা হিসেবে আপনাদের প্রথমেই দিতে হবে এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, আন্দাজমতো লঙ্কার গুঁড়ো, এক চা চামচ কাশ্মীরি লাল লঙ্কার গুঁড়ো, স্বাদমতো লবণ।

সমস্ত উপকরণ গুলিকে মিশিয়ে এবার একটু ভেজে নিতে হবে। তারপর আবারো এতে এক চা চামচ জিরে গুঁড়ো আর হাফ চা চামচ ধনে গুঁড়ো যোগ করে দিতে হবে। আবারো কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে আন্দাজ মতো জল দিয়ে দিন। চেষ্টা করবেন উষ্ণ গরম জল ব্যবহার করার তাহলে কিন্তু রান্নার স্বাদ আরো বেশি ভালো হবে।

৩) জল সামান্য ফুটতে শুরু করলে এর মধ্যে আলু দিয়ে দিন। আলু দেওয়ার পর এখানে হাফ চা চামচ পরিমাণ গরম মসলার গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে আপনাদের মিশিয়ে নিতে হবে। এবার ৮ থেকে ৯ মিনিট সময় পর্যন্ত ভালো করে আলু ফুটিয়ে নিন। এভাবে আলু বেশ কিছুক্ষণ সময় ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে গেলে আপনাদের একটা মসলা এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে।

এই ভাজা মসলার মধ্যে আপনাদের এক চা চামচ গোটা জিরে, এক চা চামচ গোটা ধনে আর একটা শুকনো লঙ্কা আপনাদের ড্রাই রোস্ট করে এখানে দিয়ে দিতে হবে। তারপর আরো মিনিট পাঁচেক সময় ভালো করে নাড়াচাড়া করে গরম গরম আলুর দম নামিয়ে নিন।

Back to top button