“মদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে মদ বিক্রি করেছি”, নিজেই নিজের গোপন কীর্তি ফাঁস করলেন কাঞ্চন মল্লিক

নিজস্ব প্রতিবেদন: কাঞ্চন মল্লিক, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির এমন একটি নাম যাকে কম বেশি কিন্তু সকলেই চেনেন। সিরিয়াস থেকে শুরু করে কমেডি চরিত্র সবকিছুতেই অত্যন্ত সাবলীল এই অভিনেতা। কিছুদিন আগেই বঙ্গ রাজনীতির প্রাঙ্গনে পা রেখেছেন তিনি। তারপর থেকেই চলে এসেছেন প্রচারের আলোকে। বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দার অনেক ধারাবাহিকেও কিন্তু আপনারা কাঞ্চন মল্লিককে অভিনয় করতে দেখবেন।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল কাঞ্চন মল্লিকের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চলেছি। এই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের জীবনের অভিনয়ের অনেক অজানা দিক তুলে ধরেছেন যা জানতে পারলে অবাক হয়ে যাবেন আপনারাও।

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, কাঞ্চন মল্লিক পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় জগতের প্রতি তাঁর একটা অদ্ভুত আকর্ষন ছিল। সেজন্য লেখাপড়া শেষ করে তিনি থিয়েটার নাটক প্রভৃতি ক্ষেত্রে অংশগ্রহন করতে শুরু করেন। কাঞ্চনের স্ত্রী পিঙ্কিও একজন অভিনেত্রী। তিনিও বিভিন্ন ধারাবাহিকের এক অতি পরিচিত মুখ।

২০০২ সালে সাথী সিনেমায় অভিনয় করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আত্মপ্রকাশ করেন কাঞ্চন মল্লিক। তার অভিনীত চলচ্চিত্র গুলির মধ্যে রয়েছে সাথী, সঙ্গী, রাজু আঙ্কল, শিকার, নো প্রবলেম, মহাকাল, বর আসবে এখুনি, লক্ষ্যভেদ, জোর যার মুলুক তার, বাই বাই ব্যংকক, জিও কাকা, কেলোর কীর্তি, লাভ এক্সপ্রেস, জুলফিকার, অভিমান, ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানা, হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা, ধনঞ্জয়, সুলতান-দ্য সেভিয়ার প্রভৃতি।

সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকার দিতে এসে কাঞ্চন মল্লিক জানান তার বাবার অসুস্থতার পরে তিনি ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। কাঞ্চন মল্লিকের কথায়, “সেই সময় রোজগার করার জন্য আমি প্রথমে টিউশনি করি। তারপর সেলসের কাজে ঢুকে ছিলাম। তখন একটা সিগারেটের কোম্পানি দুই প্যাকেট সিগারেটের সঙ্গে একটা লাইটার ফ্রি দিত। আমি দোকানে কস্টিউম পরে দাঁড়িয়ে সেটাও বিক্রি করেছি।

এমনকি মদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আমি মদ পর্যন্ত বিক্রি করেছি। রাসবিহারী মোড়ে এই মদের দোকানটি অবস্থিত ছিল। আমি জীবনে দেখেছি, জীবনে লড়তে গেলে কিন্তু একাই লড়াই করতে হয়।। কেউ কোথাও থাকে না। আমার বাবা প্রডিউসার নন, আমার বাবা ডিরেক্টর নন। আমরা কোন থিয়েটারের ডিরেক্টরের ছেলে নই। তবুও আমি মনে করি একলা লড়াই করে যতটুকু করতে পেরেছি”।

কাঞ্চন মল্লিক আরো বলেন, “আমি মনে করি আমি থিয়েটার থেকে, যেটা শিখেছি সেটা আমার স্কুল। আর যেগুলো আমি করি, সেটা আমার উপার্জন করার জায়গা। হয়তো আমার চেহারাটা বা ওই বিশেষত্বটা মানুষ ভালোবেসেছে। আমি অক্সিজেনটা থিয়েটার থেকে নি।

সেই কারণে আমি ম্যাকবেথে ম্যাকড্রাফ করতে পারি বা থানা থেকে আসছি’র তিনকড়ি হালদার করতে পারি। যত স্যান্ডো গেঞ্জি পড়েছি বা খালি গায়ে হয়েছি, অতটা মনে হয় কেউ করেননি। আমার সিক্স প্যাক এর দরকার নেই। এই নো প্যাকেই মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, এটাই আমার কাছে অনেক”।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button