“জীবনে বহুবার আত্মহত্যা করার কথা ভেবেছি”, প্রচণ্ড হতাশায় নিজেকে শেষ করার কারণ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী অঙ্কিতা!

নিজস্ব প্রতিবেদন:- সময় পেরোলে ও প্রেমের সংজ্ঞা আর বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয়না সম্প্রতি এই গল্প নিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছে ‘কাদম্বরী আজও’। গত ২৩ শে সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এই ছবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাদম্বরী দেবীর প্রেমের মহিমাকে বর্ণনা করে এই যুগের কাদম্বরী নিয়ে তৈরি এই কাহিনী। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন অঙ্কিতা চক্রবর্তী এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।

এই সবকিছুর মাঝেই একান্ত আলাপচারিতায় নিজের জীবনের অনেক অজানা কথা এবং সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্র নিয়ে মুখ খুললেন অঙ্কিতা। পাশাপাশি অভিনেত্রী জানান জীবনে তিনি অনেকবার আত্মহত্যা করার কথা ভেবেছেন। কিন্তু আচমকায় কেন এমন কথা বললেন অঙ্কিতা? আসুন জেনে নেওয়া যাক কি বলেছেন তিনি!

অঙ্কিতা চক্রবর্তীর কথায়, “গল্প যতটা না প্রেমের তার থেকে বেশি নিঃসঙ্গতার। আজকে আমরা যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে আছি সত্যি কথা বলতে দিনের শেষে প্রেম থাকুক বা না থাকুক সেনসিটিভ মানুষরা হয়তো তা চেয়ে নিতে পারে না বা আদায় করে নিতে পারেনা। একাকীত্বটা যদি মনোরম হয় তাহলে কিন্তু সেটা কে আর একাকীত্ব বলা যায় না। যখন দেখবেন আমাদের মন ভালো থাকে তখন কিন্তু একা সময়টা অন্যরকম ভাবেই কেটে যায়। মন ভালো না থাকলে কিন্তু একা সময়টা একেকটা দিনের মতন কাটে”।

অঙ্কিতার বক্তব্য অনুসারে, “আসলে প্রেম কি সেটা যেমন এক্সপ্রেস করা যায় না সেরকমভাবেই নিঃসঙ্গতাটাকেও কিন্তু প্রকাশ করা অসম্ভব। ভালো থাকার সঙ্গে কিন্তু সাকসেসফুল হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। ছবিতে কাদম্বরী চরিত্র টাও কিন্তু ভীষণ সাকসেসফুল। কিন্তু তার জীবনে যেন কি একটা নেই! আসলে জীবনে ভুল প্রেম বলে কিছু হয় না। আমি হয়তো যেটাকে ভুল ভাবছি সেটাকেই ঠিক ধরে একটা মানুষ হয়তো অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছে। তুমি যদি ভুল করে সাকসেসফুল হয়ে যাও তাহলে কিন্তু মানুষ সেই রাস্তাটাকেই ঠিক বলতে শুরু করবে”।

এরপর সাংবাদিক যখন অঙ্কিতাকে প্রশ্ন করেন যে তিনি কোন দলের মধ্যে পড়েন কোন একটা কিছু বললে সেটাকে ধরে রেখে দেওয়া না সামনে এগিয়ে যাওয়া? অঙ্কিতা উত্তর দেন, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যদি জানতে চাও আমি যেন একটা মাঝামাঝি জায়গাতে পড়ে থাকি। কখনো মনে হয় আমি এগিয়ে গিয়েছি, আবার কখনো মনে হয় আমি যেন এগিয়ে যেতে চাইছি। কিছু কিছু হিলিং কিন্তু টাইম ছাড়া হয় না। তা বলে কি একটা মানুষ বাঁচা ছেড়ে দেবে? সেটা কিন্তু একেবারেই নয়।

একটা মানুষ যদি মনে মনে মরে যায় সেটাও কিন্তু সব থেকে বেশি বেদনার”। এরপরে অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে অঙ্কিতা জানান- “একটা সময় আমার মধ্যে বহুবার আত্মহত্যা করার ইচ্ছে এসেছে। আমি ভীষণ রকম ভাবে সুইসাইডাল হয়ে পড়েছিলাম। তবে আমি কোনো রকম ভাবে প্রচন্ড মনের জোর এবং আমার জীবনে কিছু মানুষ এমন এমন সময় এসেছে এবং আমাকে এমন এমন জায়গা থেকে তুলে নিয়ে এসেছে যে আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞ বললে ভুল হবে আসলে তারা কিন্তু ভালোবেসেই আমাকে সব সময় আঁকড়ে ধরেছে।

এই বন্ধুগুলো না থাকলে বা মানুষগুলো না থাকলে কিন্তু একটা সময় আমি খুবই ডিপ্রেশনের মধ্যে চলে গিয়েছিলাম। প্রায় তিন বছর আমি এই ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে গেছি। কাজকর্ম করতে পারিনি। একেকটা সময় তাই মনে হয়েছে এত কষ্ট হয়েছে কষ্টটাকে শেষ করে ফেলি। আমি শুধু সেই মানুষগুলোকে ধন্যবাদ জানাই না যারা আমার হাত করে রেখেছে; সাথে সেইসব মানুষকেও ধন্যবাদ যারা আমার হাত ছেড়ে দিয়েছে.. তারা হাত না ছাড়লে আমি কখনো জানতে পারতাম না আমার যোগ্যতাটা কি”!

Back to top button