আইব্রো বা ভুরু খুব সুন্দর ও ঘন করার রইলো ৫টি সহজ উপায়, পুজোয় লাগবে আপনাকে দুর্দান্ত!

নিজস্ব প্রতিবেদন: নারীর সৌন্দর্য কিন্তু শুধুমাত্র সুন্দর ত্বক কিংবা চোখের মধ্যে লুকিয়ে থাকে না।। এমন বহু জিনিস আমাদের শরীরে রয়েছে যা সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এই প্রসঙ্গে আমরা দুই চোখের উপরে থাকা ভুরুর কথা কিন্তু সহজেই বলতে পারি। মুখের মাধুর্যের অনেকটাই নির্ভর করে চোখের দুই ভুরুর উপর। যা সঠিক আকারে না হলে বেমানান দেখায়। তবে সবার ক্ষেত্রে কিন্তু এই আইব্রো সমান মাপে থাকে না।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা কয়েকটি সহজ সরল ঘরোয়া টিপস নিয়ে আলোচনা করব যার সাহায্যে আপনারা খুব সহজেই মুখের আকার অনুযায়ী ভুরুর সেপ দিয়ে নিতে পারবেন। তবে তার আগে কিন্তু আপনাদের জেনে নিতে হবে ভুরুর আকার আসলে ঠিক কেমন টা হওয়া উচিত। মুখের ধরনের উপর নির্ভর করে কিন্তু এর পরিবর্তন হয়ে থাকে।

মুখের আকার অনুযায়ী আই ব্রো’র ধরন:

মুখের আকার অনুযায়ী কিন্তু প্রত্যেকের আইব্রো বা ভুরুর ধরন আলাদা হয়ে থাকে। তাই আপনাদের অবশ্যই এই সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

১) যদি আপনার মুখের আকার গোলাকার হয়, সেক্ষেত্রে ভুরু যুগল ধনুকাকার অর্থাৎ ধনুকের সেপে হলে মুখ অনেকটা লম্বা ও পাতলা দেখাবে, যা বেশ সুন্দর লাগতে পারে।

২) অল্প বয়সী মেয়ে যাদের মুখ ওভাল সেপ বা ডিম্বাকৃতি তাদের ভুরু ঘন ও মোটা হলে বেশি সুন্দর দেখায়।

৩) যদি আপনার মুখ দীর্ঘ হয়, তবে এই বৃহত্তর দৈর্ঘ্যের উপস্থিতি কম করতে, ভুরুর আকারটি কিছুটা নীচের দিকে নামিয়ে সেপ দেওয়া উচিত।

৪) বর্গাকার আকৃতির মুখের ক্ষেত্রে কিন্তু ভুরু যুগল কিছুটা বাঁকিয়ে আকার দেওয়া উচিত। এতে মুখের গঠন দৃঢ় দেখায়। তবে আইব্রোর আকার যেরকমই হোক না কেন সেটা ঘন হওয়া সবথেকে বেশি প্রয়োজন। কারণ যদি সেটা ঘন না হয় তাহলে কিন্তু একে কখনোই প্রয়োজন অনুযায়ী শেপ দেওয়া যাবে না।

আইব্রো ঘন করার উপায়:

১) রেড়ির তেল দিয়ে মালিশ:

রেড়ির তেল বা ক্যাস্টর অয়েল কিন্তু এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী একটি জিনিস। সামান্য পরিমাণে এই তেল নিয়ে আপনাদেরকে ভুরুর উপর লাগান। যদি ভুরু খুব পাতলা হয় তাহলে এটি সারারাত লাগিয়ে রাখুন, সকালে উঠে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। না হলে মাত্র ৩০ মিনিট মত রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে। মোটামুটি যদি আপনারা এই কাজ সপ্তাহখানেক ধরে করতে পারেন তাহলেই কিন্তু কাজ হয়ে যাবে। এই তেল কিন্তু অত্যন্ত রূপে পুষ্টি জুগিয়ে থাকে।

২) নারকেল তেল:

আইব্রোর জন্য কিন্তু নারকেল তেলও একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস হতে পারে। ভুরুর উপর নিয়মিত এই তেল মালিশ করলে এটা অত্যন্ত ঘন হয়ে যাবে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই। তবে অবশ্যই কিন্তু আপনাদের এটা নিয়মিত করতে হবে।

৩)অ্যালোভেরা জেল:

শুধুমাত্র চুল বা ত্বকের জন্য নয় আমাদের আইব্রোর জন্যও কিন্তু অ্যালোভেরা জেল একটি অত্যন্ত উপকারী জিনিস।অ্যালোভেরা জেল ভুরুতে লাগিয়ে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মত রেখে দিন। জেল শুকিয়ে যাওয়ার পরে আপনাদের ভালো করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। চাইলে কিন্তু এটা আপনারা গোটা মুখেও লাগাতে পারেন। যদি আপনারা দিনে অন্ততপক্ষে দুইবার এটা করতে পারেন তাহলে কিন্তু আরো বেশি ভালো রকমের কাজ দেবে।

৪)পেঁয়াজের রস:

আমাদের চুলের মতন আইব্রোর জন্য কিন্তু পেঁয়াজের রস অত্যন্ত উপকারী। এর মধ্যে সালফার রয়েছে যা, চুলের বৃদ্ধিতে কিন্তু সহায়ক। যদি আপনাদের পাতলা ভুরু সংক্রান্ত সমস্যা থেকে থাকে সেক্ষেত্রে খুব সহজেই পেঁয়াজের রস দিয়ে আপনারা মালিশ করতে পারেন নিয়মিত। যদি একেবারেই সময় না থাকে সে ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে সপ্তাহে একবার করলেও কিন্তু ধীরে ধীরে কাজ হবে।

৫) মেথির দানা ব্যবহার:

সবশেষে বলবো মেথির দানা ব্যবহার করার কথা। মেথির দানা এবং নারকেল তেলের পেস্ট ভুরুতে লাগালে পাতলা ভুরু ঘন হতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন যদি আপনারা এই পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন তাহলে কিন্তু এটা সবথেকে বেশি কার্যকরী হবে। আজকের প্রতিবেদনে যে সমস্ত পদ্ধতি আমরা আলোচনা করলাম প্রত্যেকটা পদ্ধতি কিন্তু অত্যন্ত বেশি রকমের কার্যকরী।

এই পদ্ধতিগুলি প্রয়োগ করে যদি আপনারা আইব্রো ঘন করতে চান সহজেই করতে পারেন। কোন উপায়টি আপনাদের সবথেকে বেশি কাজে লাগলো তা কিন্তু আমাদের অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না। বিস্তারিত জানতে হলে নজর রাখতে থাকুন আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদন গুলির উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button