যার শ্যামা সঙ্গীতে আজও মুগ্ধ সকলে! মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি কেন করেছিলেন আত্মহত্যা? সঙ্গীত শিল্পী পান্নালাল ভট্টাচার্যের এই অজানা কাহিনী চোখে আনবে জল

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাঙালি হিন্দুদের কাছে কালীপুজো এবং পান্নালাল ভট্টাচার্যের গান যেন সমার্থক। তার গাওয়া শ্যামা সঙ্গীত ছাড়া মায়ের আরাধনা যেন সম্পূর্ণই হয় না। তার গানের মধ্যে দিয়েই যেন নিবেদিত হয় হৃদয়ের সমস্ত আকুতি-বিকুতি। নিজের মতো করে মাকে ডাকা ওই নিবেদনের আর্তি অন্য কোন শিল্পীর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। তার উচ্চারণেও আছে এক অদ্ভুত মায়া, তার গায়কীর মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত সারল্য।

পান্নালাল ভট্টাচার্যের প্রথম থেকেই ইচ্ছে ছিল তিনি চলচ্চিত্রের নেপথ্য গায়ক হবেন। কিন্তু সেটা আর তেমনভাবে হয়ে ওঠেনি। দাদা ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কথা শুনে ভক্তিগীতি গাইতে শুরু করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথমবার তিনি গান রেকর্ড করেন। ‘আমার সাধ না মিটিলো আশা না ফুরিলো সকলি ফুরায়ে যায় মা’ তার রেকর্ড করা প্রথম গান। ভক্তিমূলক গানকে নিজের কন্ঠে ঠাঁই দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি প্রকৃত অর্থে সাধক গায়ক হয়ে উঠলেন।

মায়ের চিন্তাতেই তিনি সারাদিন মগ্ন থাকতেন। কালী পূজার সময় দক্ষিণেশ্বরে অনুষ্ঠান করার পরে সেখানেই সারারাত কাটিয়ে দিতেন পান্নালাল বাবু। বারবার মাকে দেখার চেষ্টা করতেন তিনি। যত দিন গেছে ভক্তিগীতি গাওয়ার সাথে তার মধ্যে মাকে দেখার ইচ্ছেটাও যেন বেড়ে গিয়েছে। পান্নালাল বাবু ছিলেন সংসারী মানুষ। নিজের হাতেই তিনি নিজের মেয়েদের চুল বেঁধে দিতেন।

নিজের স্ত্রীর জন্য শাড়ি কিনে আনতেন। পরিবারের সাথে ও সময় কাটাতে পছন্দ করতেন তিনি। কিন্তু এই পান্নালাল বাবু এই ধীরে ধীরে সংসারের বন্ধন ছেড়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন। দিনের বেশিরভাগ সময়টা শ্মশানে গিয়ে কাটাতেন তিনি। এমনকি রাত হয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফিরতে চাইতেন না। সারাক্ষণ মা ভবতারিণীর খোঁজ করতেন তিনি।

এই সময় থেকে সংসারের বাঁধনে তাকে আর বাধা যাচ্ছিল না। মায়ের দেখা পেতেই হবে, এই লক্ষ্য নিয়ে সংসার থেকে বিবাগী হয়ে যেতে শুরু করেন পান্নালাল বাবু। শেষে এলো সেই অভিশপ্ত দিন। ১৯৬৬ সালের ২৭ শে মার্চ, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে চূড়ান্ত অবসাদ এবং অতৃপ্তি নিয়ে আত্মহত্যা করলেন সাধক গায়ক পান্নালাল ভট্টাচার্য। সম্ভবত পরপারে গিয়েই মায়ের দেখা পেতে চেয়েছিলেন তিনি।তবে মৃত্যুর আগেই তিনি রেখে গিয়েছিলেন শ্যামা সঙ্গীতের অপার ভান্ডার। ৩৬ টি আধুনিক সমেত ১৮ টি রেকর্ড,একটি বাংলা সিনেমার গান এবং ৪০ টি শ্যামা সংগীত এর রেকর্ড।

শ্রী অভয় নাম দিয়ে তিনি লিখে এবং সুর করে দিয়ে গেছেন বেশকিছু শ্যামা সংগীত। মৃত্যুর আগে জীবনের শেষ বারের মতন যে শ্যামা সংগীত তিনি রেকর্ড করেছিলেন সেটি হল,‘অপার সংসার নাহি পারাপার মাগো আমার’। বিশিষ্ট শ্যামা সঙ্গীতশিল্পী পান্নালাল ভট্টাচার্যকে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে এবং তার গান যদি আপনারা শুনতে পছন্দ করেন অবশ্যই আমাদের এই প্রতিবেদনটি একটি লাইক কমেন্ট আর শেয়ার করে দিতে ভুলবেন না।

Back to top button