জীবনের শেষসময় কাটে চরম অর্থকষ্টে! মৃত্যুর পর খোঁজও নেয়নি কেউ, জনপ্রিয় অভিনেতা সুনীল মুখার্জীর করুণ পরিণতি জানলে হবেন অবাক!

নিজস্ব প্রতিবেদন:- একসময় টালিগঞ্জের একজন বেশ পরিচিত আর জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন সুনীল মুখোপাধ্যায়। নিজের অভিনয়গুনে ছোটখাটো চরিত্রগুলি কেও তিনি দর্শকদের মাঝে স্মরণীয় করে তুলতেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোর বা মাতাল জাতীয় পার্শ্ব চরিত্রে তাকে বেশি দেখা যেত। দু একটা কমেডি চরিত্র দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে শেষ জীবনে যেন আচমকাই সকলের মাঝখান থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সারা জীবন দর্শকদের আনন্দ দিয়ে শুধুমাত্র অবহেলা ছাড়া কিছুই পাননি সুনীল বাবু। নীরবেই ইহলোক ত্যাগ করে গিয়েছেন তিনি।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তার জীবনের কিছু অজানা কথা আলোচনা করতে চলেছি। ১৯৪৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সুনীল মুখোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের যশোরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি, তবে অল্প বয়সেই তার পরিবার কলকাতায় চলে আসে। মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি অভিনয় জগতে পা রাখেন। প্রথম জীবনে তিনি প্রখ্যাত অভিনেতা উৎপল দত্তের নাট্য দলে অভিনয় করতেন। তারপর কলকাতা ৭১ ছবি দিয়ে তার বড় পর্দায় প্রবেশ ঘটে। কিন্তু তার অভিনীত জায়গাটি কিন্তু বাদ পড়ে যায়।

তাকে প্রথমবার পর্দায় দেখা যায় নিম অন্নপূর্ণা ছবিতে। এরপর অমৃতকুঞ্জের সন্ধানে, খারিজ, কালবেলা ইত্যাদি অনেক ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। মৃণাল সেন থেকে শুরু করে গৌতম ঘোষ সকলের পরিচালনাতেই কিন্তু কম বেশি তিনি কাজ করেছেন। পদ্মা নদীর মাঝি ছবিতে অভিনয় করে বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয় ছাড়াও টেলিভিশন এবং মঞ্চে কাজ করেছেন সুনীল মুখোপাধ্যায়। বিএফজের বিচারে পরপর তিনবার সেরা সহ অভিনেতা মনোনীত হন তিনি। হীরের আংটি ছবিতে চোরের ভূমিকায় তার অভিনয় হয়তো আজও ভুলতে পারেনি বাঙালি।

অনেক কমেডি ছবিতেও তাকে বহুবার দেখা গিয়েছে। বাস্তব জীবনেও তিনি মজা করতে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। খোলামেলা মনের মানুষ ছিলেন সুনীল মুখোপাধ্যায়।। তবে এত ছবিতে এত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেও কখনো আর্থিক স্বচ্ছলতা বিশেষভাবে আসেনি তার। আজীবন ভাড়া বাড়িতেই কাটিয়েছেন সুনীল মুখোপাধ্যায়। বাসেই যাতায়াত করতেন তিনি। কখনো গাড়ি কেনার বিলাসিতা তার হয়নি। শেষ জীবনে তার শরীর অনেকটাই ভেঙ্গে গিয়েছিল। সকাল সন্ধ্যা ছবির সময় একটা বাচ্চা মেয়েকে কোলে তুলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন।

সত্যি কথা বলতে সেই সময় তার শরীরের শক্তি বলতে কিছুই ছিল না। অনেকটা জোর করেই তাকে ওই দৃশ্যে অভিনয় করানো হয়েছিল। এরপর সুনীল বাবুর সাথে প্রোডাকশনের অনেক ঝামেলা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত তার সামাল দিয়েছিলেন অভিনেত্রী সংঘমিত্রা ব্যানার্জি। শেষ জীবনে একঘেয়ে চরিত্র পাওয়ার জন্য কাজ করাও অনেকটা কমিয়ে দিয়েছিলেন সুনীল বাবু। তিনি বলতেন দুঃস্থ, গরিব, চোর, ডাকাত এই ধরনের চরিত্র আমি বাঙালি জাতিকে অনেক দিয়েছি। আমার দেওয়ার মতন আর কিছুই নেই।

শেষের দিকে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা।টিবি রোগ বাসা বেঁধে ছিল তার শরীরে। যাদবপুরের এক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অভিনেতা। ২০১২ সালের ২৪ শে মে তিনি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শেষকৃত্যে বিশেষ কাউকে দেখা যায়নি। নীরবেই এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরপারে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। সেরকম কোন পুরস্কার না পেলেও বাঙালির মনে কিন্তু নিজের অভিনয় দ্বারা সারা জীবন তিনি রয়ে যাবেন। সুনীল মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় আপনাদের কেমন লাগে তা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না। প্রতিবেদনটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার করে নেওয়ার অনুরোধ রইলো।

Back to top button