জানেন মৃত্যুর ঠিক আগের দিন কোন গানটি রেকর্ড করেছিলেন কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমার? শুনুন সেই হিট গান

নিজস্ব প্রতিবেদন: সুরেলা কন্ঠের অধিকারী ভারতের সর্বকালীন খ্যাতিসম্পন্ন গায়ক কিশোর কুমার। গায়কের পাশাপাশি তিনি একজন অভিনেতাও ছিলেন। গীতিকার আর সংগীত পরিচালক হিসেবেও তিনি অত্যন্ত সফল। তবে এই সফলতার সিঁড়ি অতিক্রম করতে গিয়ে বহু কাটাযুক্ত পথ তিনি অতিক্রম করেছেন। কিশোর কুমারের কাছে কিন্তু প্রথাগত তালিম ছিল না। তার কেরিয়ার শেষ করতে পেছনে পড়েছিল অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও।

তবু কিছুতেই যেন আটকানো যায়নি তাকে। মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গান রেকর্ড করে গিয়েছেন। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা কিশোর কুমারের শেষ গাওয়া গান সম্পর্কে জেনে নেব। এছাড়াও আলোচনা করব বিশেষ কিছু অজানা কথা নিয়ে যা হয়তো আপনাদের অবাক করবে। চলুন আর সময় নষ্ট না করে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়া যাক। ১৯৮১ সালের ২৪ শে জানুয়ারি দিনটি ছিল কিশোর কুমারের কাছে এক অভিশপ্ত দিন।

তিনি তখন কলকাতায় ছিলেন। মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘন্টার ব্যবধানে পরপর দুইবার হার্ট অ্যাটাক হয় তার। তবে হার্ট অ্যাটাক এর পরেও মৃত্যুর মুখ থেকে তিনি ঈশ্বরের কৃপায় ফিরে এসেছিলেন। সুস্থ হবার পর ১৯৮২ সালে রাজপুত ছবির জন্য ‘মেরে সঙ্গ সঙ্গ আয়া’ এবং গেহরা জখম ছবির জন্য আশা ভোঁসলের সঙ্গে একটি গান গেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনের চারবার বিবাহ করেছিলেন কিশোর কুমার। সেই দাম্পত্য জীবনে যেমন বিচ্ছেদ এসেছিল ঠিক তেমন ভাবেই এসেছিল বিশ্বাসঘাতকতাও।

জীবনের শেষের দিকে বড্ড নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন কিশোর কুমার। স্ত্রী এবং পুত্ররা থাকলেও মনের ভেতর অত্যন্ত একাকী বোধ করতেন। শোনা যায় শেষের দিকে নিঃসঙ্গ কিশোর কুমার গাছের সঙ্গে নিজের মনের কথা শেয়ার করতেন। এরপর ১৯৮৭ সালের ১২ই অক্টোবর অর্থাৎ কিশোর কুমারের প্রয়াণের ঠিক আগের দিন। তখন বোম্বেতে ওয়াক্ত কি আওয়াজ ছবিতে কাজ করছেন কিশোর কুমার।

এই ছবিতে মোট তিনটি গান গেয়েছিলেন তিনি। ‘I want to hit somebody’,‘লরকি আকেলি তু ভি আকেলি’,‘গুরু গুরু আজাও গুরু’ তিনটি গান এই ছবির জন্য গেয়েছিলেন কিশোর কুমার। দুটি গান তিনি আগেই রেকর্ড করে ফেলেছিলেন।শেষ দিনে তিনি আশা ভোঁসলের সঙ্গে রেকর্ড করেন গুরু গুরু আজাও গুরু গানটি। এটাই ছিল কিশোর কুমারের গাওয়া শেষ গান।

গানটিতে লিপ দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। জানা যায় সেদিন গান গাওয়ার সময় তাকে বেশ অসুস্থ দেখাচ্ছিল। এমনকি গান গাওয়ার সময় কিশোর কুমারের অসস্তি নজর এড়িয়ে যায়নি আশা ভোঁসলের। এমনকি আশাজি তাকে বলেও ছিলেন যে আপনাকে তো বেশ অসুস্থ লাগছে। একটু বিশ্রাম নিয়ে নিন। পরের দিনও রেকর্ডিং করা যেতে পারে। বলাই বাহুল্য গানটির রেকর্ডিং যদি সেদিন তিনি সম্পূর্ণ না করতেন, তাহলে হয়তো আর কোনদিনই সেটা সম্পূর্ণ করতে পারতেন না।

সেদিন রেকর্ডিং শেষেই বাড়ি ফিরে এসেছিলেন কিশোর কুমার। কিন্তু শরীরের উদ্বিগ্নতা কাটতেই চাইনি। পরদিন ১৩ই অক্টোবর সকালে কিশোর কুমার তার স্ত্রীকে জানান শরীর খুব দুর্বল লাগছে। এরপর চিন্তিত হয়ে লীনা ডাক্তারকে খবর দিতে যান। কিন্তু তারপরেও মজা করে কিশোর কুমার বলেছিলেন তার স্ত্রীকে, তুমি যদি ডাক্তারকে খবর দাও আমার কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হবে।এটাই ছিল কিশোর কুমারের শেষ কথা। তারপরেই না ফেরার দেশে চলে যান এই জনপ্রিয় গায়ক।

কিশোর কুমারের কাজ করা ওয়াক্ত কি আওয়াজ ছবিটি পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল। কিশোর কুমারের মৃত্যুর পর বহু বছর পার হয়ে গেলেও এখনো যেন বলিউড তার হাত ধরে চির কিশোর। কিশোর কুমারের গাওয়া শেষ গানটি আজও যেন বহু জনপ্রিয় গানের মধ্যে একটি হয়ে রয়ে গিয়েছে। গানের মধ্যে দিয়েই ভক্তদের মনে থাকবেন কিশোর কুমার। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।

Back to top button