বিনা জমিতে খুব সহজ এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাড়ির টবেই করুন কাঁকরোল চাষ, সারাবছর ধরে ফলন হবে প্রচুর

নিজস্ব প্রতিবেদন: আপনাদের মধ্যে অনেকেই কিন্তু কাকরোলের সবজি খেতে কমবেশি পছন্দ করে থাকেন। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন আর খনিজ উপাদান রয়েছে। তবে আজকাল বাজারে যে সমস্ত কাঁকরোল পাওয়া যায় সেগুলি কিন্তু বাড়িতে রান্না করলে অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন আর খনিজ উপাদান প্রবেশ করতে পারে না।

কারণ গাছের বৃদ্ধির জন্য তাতে এমন অনেক জিনিস মেশানো হয়ে থাকে যেগুলো আমাদের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে বাড়িতে কাঁকরোল চাষের পদ্ধতি শেয়ার করে নিতে চলেছি। সহজেই কিন্তু টবের মাধ্যমে আপনারা এই চাষ করতে পারবেন। আসুন আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

কাকরোল চাষের জন্য মাটি: কাকরোল চাষের জন্য কিন্তু যে কোন ধরনের মাটিই ব্যবহার করা যেতে পারে।তবে সার এবং অন্যান্য কিছু উপাদান মিশিয়ে আপনাদের মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে।পারলে সর্ষের খোল পচা সার বা চা পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে দিতে পারেন। যে মাটিতে কাঁকরোল চাষ করবেন সেটা যদি কোন কারণে শক্ত হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তার মধ্যে কিছুটা পরিমাণ বালি মিশিয়ে নিতে পারেন। কারণ এই সবজি চাষের জন্য মাটি যতটা পরিমাণ ঝুরঝুরে থাকবে ততটাই ভালো। কাকরোল চাষ করার জন্য আপনারা মোটামুটি ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি সাইজের টপ বা মাঝারি আকারের যে জলের ড্রাম গুলো থাকে সেগুলো কাজে লাগাতে পারেন। আপনার টবের আকার যত ভালো হবে চাষ করতে ততটাই কিন্তু সুবিধা হবে।

কাঁকরোল চাষের জন্য বীজ এবং প্রয়োজনীয় রোদের পরিমাণ: কোন ভালো নার্সারি থেকেই কিন্তু আপনারা সহজে কাঁকরোল চাষের জন্য বীজ সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।রোপন করার আগেরদিন রাতে অবশ্যই বীজ ভিজিয়ে রেখে দেবেন তাহলে কিন্তু এর মধ্যে জারমিনেশন ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যাবে। মোটামুটি নির্দিষ্ট রোদ তথা সূর্যালোকের মধ্যেই আপনাদের গাছ রাখতে হবে।

কাকরোল গাছের পরিচর্যা: খেয়াল রাখবেন কোনোভাবেই যাতে কাঁকরোল গাছের গোড়ায় আগাছা জন্মাতে না পারে। পাশাপাশি গাছের গোড়ায় যাতে জল দাঁড়িয়ে না থাকে সেটাও কিন্তু আপনাদের দেখতে হবে। সবসময় আবহাওয়া বুঝে এই গাছের মধ্যে জল প্রয়োগ করবেন। যখন দেখবেন গাছ একটু ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে তখন অবশ্যই আপনাদের কঞ্চি দিয়ে সেটাকে সাপোর্ট দিতে হবে। তাহলে কিন্তু গাছের বৃদ্ধি সঠিকভাবে হবে।

সারের প্রয়োগ: কাঁকরোল গাছের বীজ রোপন করার পর তা থেকে চারা বেরোনোর মোটামুটি এক মাস পর থেকে আপনারা এতে সার প্রয়োগ করতে পারবেন। বিশেষ করে যদি আপনারা খোলা মাটিতে চাষ না করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের কিন্তু সার দিতেই হবে। কাকরোল গাছে সর্ষের খোল পচিয়ে সেটা সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। গোবরসার গুঁড়ো করে দিতে পারেন, তাছাড়া নিয়মিত গাছের গোড়ার মাটি ঝুরঝুরে করে দিতে হবে।

এই গাছে কিন্তু জাবপোকার উৎপাত হয়, এছাড়া মাছি ও বিছা পাতা ও ফুল নষ্ট করে দেয়। এর জন্য আপনাদের কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। তবে যেহেতু আপনারা কাকরোল খাবেন তাই কোনো রকমের কেমিক্যাল কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে না। বাড়িতে কিন্তু আপনারা সহজ উপায়ে কীটনাশক তৈরি করে নিতে পারেন।

পেঁয়াজ রসুনের খোসা জলে ভিজিয়ে সেই জল ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে গুঁড়ো লঙ্কা আর রসুন থেঁতো করে সেটাও জলে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। উপরের সমস্ত নিয়ম সঠিকভাবে মেনে চললে এবং পাশাপাশি সার, কীটনাশকের প্রয়োগ সঠিকভাবে করলে কিন্তু সহজেই কাকরোল গাছ বেড়ে উঠবে আর ভালো ফলন দেবে।

Back to top button